করোনায় কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় নেফ্রোলজিস্ট ডা. তানিয়ার অভিজ্ঞতা

0
4

চলমান করোনা মহামারীর মধ্যে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজিস্টের (আইএসএন)‘তে নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন দেশের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞরা (নেফ্রোলজিস্ট) । বাংলাদেশ থেকে আইএসএন ফেলো হিসেবে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছে ঢাকার ইউনাইটেড হসপিটালের নেফ্রোলজি কনসালটেন্ট ডা. তানিয়ামাহবুব।

ডা. তানিয়া মাহবুব বলেন, কোভিড-১৯ যেহেতু নতুন রোগ এ কারণে সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী এই রোগের ব্যবস্থাপনাতেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মার্চের শুরুর দিকে বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়‚ তখনই প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের এই নতুন রোগের ব্যাপারে ধারণা দেয়া, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা শেখানো এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানকরা হয়।

পরবর্তীতে ডায়ালাইসিসসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যেসব রোগী এসেছেন প্রাথমিক ভাবে তাদের পরীক্ষা করা হয়। কোভিডের উপসর্গযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে, আমরা নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রদান করেছি। ডায়ালাইসিস ইউনিটকে সংক্রমণ রোধে বিশেষ ব্যবস্থাও নেয়াহয়েছে। পাশাপাশি রোগীদেরও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে এবং সরাসরি না এসে টেলিমেডিসিন সেবা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে পিপিই পরিধান করে রোগীর কাছে যাওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে দেশে কোভিড হাসপাতাল সুনির্দিষ্ট করা হয়ে ছিল। কিন্তু সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব হাসপাতালে কোভিড রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তখন আমাদের ইউনাইটেড লহাসপাতালকে কোভিড, নন-কোভিড এবং সন্দেহজনক কোভিড অংশ হিসেবে বিভক্ত করেছি। আরটি-পিসিআর মেশিনও বসানো হয়েছে। বর্তমানে, আমরা ক্রিটিকাল কেয়ার এরিয়ায় কিডনি রোগীদের পরামর্শ প্রদানসহ সিসিইউতে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যেসব কোভিড রোগীর ডায়ালাইসিস দরকার তাদের জন্য নেগেটিভ প্রেসার আইসোলেশন চেম্বার করা হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতায়, কোভিডএবং নন-কোভিড রোগীদের একই চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ।

তবে দুঃখ জনক ভাবে অনেক রোগী রোগের প্রকৃত ইতিহাস গোপন করেন। তাদের কারণে চিকিৎসকরা অত্যন্তঝুঁকিতে পড়েন। দুর্ভাগ্য জনক ভাবে বাংলাদেশে করোনায় চিকিৎসকদের মৃত্যু অনেক বেশি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। ফলে আমি আমার চিকিৎসক বন্ধুদের বলবো রোগী দেখার সময় অবশ্যই এন৯৫ বা এই মানের মাস্ক পরাটাজরুরি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here