ধর্মঘট ডাকার পরেই কঠিন শাস্তির মুখে সাকিব

0
410

ক্রীড়া প্রতিবেদক: মাশরাফিকে হটিয়ে দেশের বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক দেন সাকিব আল হাসান। সেই ধর্মঘটের আপাতত অবসান হয়েছে। তবে বিসিবির আইন ভঙ্গ করার অপরাধে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি জানান, সাকিব সঠিক জবাব না দিতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সোমবার ধর্মঘটে যাওয়ার পরদিন গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন সাকিব। বিসিবির আইন অনুযায়ী, অনুমতি না নিয়ে এ ধরনের চুক্তি করতে পারবে না কোনো খেলোয়াড়। রবি বাংলাদেশ দলের স্পন্সর হওয়ার পর একটি আইন করে বিসিবি। তা হলো- টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে গেলে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে বোর্ড থেকে। কিন্তু সাকিব অনাপত্তিপত্র নেননি। এমনকি বোর্ডের কাউকেই অবহিত করেননি। এতেই ক্ষেপেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘লিখিতভাবে ওদের বলে দেওয়া আছে। রবি আমাদের টাইটেল স্পন্সর হলো। গ্রামীণ বিডই করলো না। না করে এক-দুই কোটি দিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে ফেলল। এতে শেষ পর্যন্ত কী হলো? তিন বছরে বোর্ডের ৯০ কোটি টাকা লস হলো। খেলোয়াড় লাভবান হলো। কিন্তু বোর্ডের তো ১২টা বেজে গেল। এটি তো হতে পারে না। তাই লিখিতভাবে ওদের জানিয়ে রাখা আছে। এমনকি আমার জানা মতে, মন্ত্রণালয় থেকেও ওদের বলা আছে যে না জানিয়ে টেলকোর সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না। আমাদের সঙ্গে চুক্তি তো আছেই। তারপরও আমাদের না জানিয়ে কী করে চুক্তি করে? টাইমিংটা দেখুন। খেলা বন্ধ করে চুক্তি! এগুলো তো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।’

কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রশ্নে বোর্ড প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে যাচ্ছি। কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করবো এখন। সেটি কোম্পানির কাছেও দাবি করবো, দাবি করবো খেলোয়াড়ের কাছেও। আমরা কি ছেড়ে দেবো নাকি? কালকে (গত পরশু) শুনলাম প্রথম।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি বলে দিয়েছি, গ্রামীণফোনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাও। বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাও। বলেছি, চিঠি পাঠাও সাকিবকেও। আমাদের ব্যাখ্যা চাই। সে আইন ভঙ্গ করে গেল কেন? এখন সে যদি দেখাতে পারে যে আইন ভঙ্গ করেনি, ওকে তো বলার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের কাছে ব্যাপারটিকে মনে হয়েছে, বোর্ডের কোনো নিয়ম-কানুন মানি না। এ রকম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবই।’

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাকিব আল হাসান কোনো উত্তর দেয়নি বোর্ডকে। নভেম্বরেই ভারত সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ক্যাম্পও। প্রথম দিন অনুশীলনে আসেননি সাকিব। ভারত সিরিজের আগে এমন পরিস্থিতি সাকিবের জন্য বিব্রতকরই বটে।

গত ২১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার পরের দিন সাকিব এই চুক্তি করেন। এই নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয় টেলিকম কোম্পানি থেকে। সাকিব চুক্তিটি এমন সময় করেছেন যখন তার নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা ১৩ দফা দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছে ঠিক তখন।

ডেইলি২৪লাইভ/ঢাকা/এসএস

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here