আবরারকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা রোকেয়া খাতুন

0
350

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যুতে শোকের মাতম বইছে তার গ্রাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা রোকেয়া খাতুন। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ফাহাদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রায়ডাঙ্গায় পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসী সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবরারের স্বজনরা হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। লাশ সামনে রেখে গ্রামের তরুণরা মিছিল শুরু করেন। আবরারের খুনিদের বিচার দাবি করেন।

ছেলের অকাল মৃত্যুতে বিলাপ করতে করতে আবরারের মা বলেন, আমার বেটা লাখে একটাও হয় না রে…। সবার ঘরে বেটা থাকতে পারে, আমার বেটার মতো বেটা ছিল না। আমার বেটা কোনো দিনও জোরে (উচ্চস্বরে) কারও সঙ্গে কথা বলে নাই। কোনো রাজনীতির মিছিলে যায় নাই। যেইখানে রাজনীতির আলাপ করে সেইখানেও যায় নাই। আমার বেটা শুধু লেখাপড়া নিয়াই থাকত।

ফাহাদের স্মৃতি আওড়াতে আওড়াতে রোকেয়া খাতুন জানান, তার ছেলে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চারটিতেই সুযোগ পান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেধা তালিকায় ১৩ নম্বরে ছিলেন। সরকারের কাছে ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের যথাযথ শাস্তির আর্জি জানান এ মা।

ছেলের লাশ নিয়ে বাড়িতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহও। তিনি বলেন, ৬ ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে আমার ছেলেকে খুন করা হযেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এটি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

সকাল ১০টার দিকে রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে ফাহাদের তৃতীয় ও শেষ জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here