সেদিন যেভাবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শেখ হাসিনা

0
40

নিউজ ডেস্ক: ২১ আগস্ট বাঙ্গালিদের জন্য একটি শোকের মাস। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এ মাসটি চরম শোকের মাস। এ মাসের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনার ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ বুধবার।

২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে নিহত হন ২২ জন। আর আহত হন কয়েক শ মানুষ। ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ঘটনার মামলার শুনানি হাইকোর্টে এখনও অপেক্ষমাণ।

ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ১৪ বছরের মাথায় পৃথক দুটি মামলায় গত বছরের ১০ অক্টোবর বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় আরও ১১ জনের। সাজাপ্রাপ্ত ৫১ আসামির মধ্যে এখনো পলাতক আছেন ১৮ জন। গত ১৩ জানুয়ারি দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সে সময়ের মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন মারা যান। আহত হন কয়েক শ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে তাঁর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঠিক কী ঘটেছিলো সেদিন। ভয়াবহ সেই হামলার ক্ষণ জেনে নিন এক নজরে-

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির উদ্যোগে সমাবেশ চলছিলো। সমাবেশের প্রায় শেষ পর্যায়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

একটি ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে ঘিরে পাশে ছিলেন দলীয় নেতারা। সামনে ছিলেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা ফটো সাংবাদিক জিয়াউল ইসলাম বলেন, এমন নৃশংসতা কখনো হতে পারে আমার কল্পনাতেও ছিলো না। আমি মঞ্চেই ছিলাম। চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। হুড়োহুড়ি আর ধাক্কায় চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যাই। আমার ওপরে পড়ে অনেকে। হঠাৎ ট্রাকের পাটাতনের ফাঁকে চোখে পড়লো একটা গ্রেনেড। সেটি বিস্ফোরিত হলে কি হতো ভাবতেই শিউরে উঠি এখনো। শেখ হাসিনা কয়েক হাত দূরে। তাকে ঘিরে মানব ঢাল তৈরি করেছেন দলের নেতারা। গ্রেনেডের শব্দ শেষে শুরু হলো গুলির শব্দ। এক পর্যায়ে উঠে দাঁড়াই এবং গুলি থামলে ট্রাক থেকে নেমে আসি। নামার পর যা দেখি সেটি আরেক বিভীষিকা। চারদিকে আর্তনাদ, আহত মানুষের গোঙ্গানি। রক্তাক্ত পড়ে আছে বহু নারী-পুরুষ। কে জীবিত কে মৃত বোঝা মুশকিল। নিজে বেঁচে আছি বুঝতে পেরে আবার ক্যামেরার শাটারে ক্লিক করতে আরম্ভ করি।

এ হামলায় অল্পের জন্যে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনের সেই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। এর মধ্যে এখনও অনেকে দুঃসহ সেই ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here