বাবা-ছেলেসহ বজ্রপাতে ১৩ জনের নির্মম মৃত্যু

0
34

নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নামা ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমেই বেড়ে চলছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

সর্বশেষ জানা তথ্য মতে, পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাবনার বেড়া উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন। সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলায় বাবা ও ছেলেসহ দু’জন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় তিনজন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একজন ও ফুলপুর উপজেলায় দু’জন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় একজন।

শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

সুনামগঞ্জ: সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন- মৃত মিরাজ আলীর ছেলে হারিদুল (৪৫) ও তার ছেলে তারা মিয়া (১০)।

তাহিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা: দুপুরে পাবনার বেড়া উপজেলায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের কৃষক মোতালিব সরদার (৫০), তার দুই ছেলে শরিফ সরদার (১৭) ও ফরিদ সরদার (২০) এবং প্রতিবেশী রহম প্রামানিক (৬০)।

পাবনা বেড়া থানার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, দুপুরের দিকে বেড়া উপজেলার পাঁচুরিয়া গ্রামে একটি পুকুরে পাট পরিষ্কার করার সময় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী: বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে দুরুল হুদা (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আজম বাংলানিউজকে বলেন, সকালে মাঠে ধান লাগানোর কাজে যান দুরুল। বিকেলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

ময়মনসিংহ: দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে চৈইত কোচ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়বিলা বিলে চৈইত ও তার বড় ভাই মনু বর্মন মাছ শিকার করছিল। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই চৈইতের মৃত্যু হয়। এ সময় মনু আহত হয়েছেন।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় কৃষকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- জামাল উদ্দিন (৪০) ও সোহাগ মিয়া (২৪)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে কৃষক জামাল ধানের চারা নিয়ে ফসলের মাঠে যাওয়ার সময় এবং সোহাগ মিয়া নিজের হাঁসের খামারে খাবার দিতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন্নাহার শাম্মী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা​: বিকেলে চুয়াডাঙ্গার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বজ্রপাতে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই ট্রাকে কলা বোঝাই করছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন- আলফাডাঙ্গা উপজেলার মেহেরপুরের বারাদি ইউনিয়নের মকবুলের ছেলে আল আমিন (৩০), গোলাম রসুলের ছেলে হুদা (৩২) ও মো. বরকতের ছেলে হামিদুল (৩৫)।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সোনিয়া আহমেদ বলেন, বজ্রপাতে গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here