বাবা-মার জটিল চিকিৎসায় সুদমুক্ত ঋণ

0
49

নিজস্ব প্রতিবেদক: মা-বাবার কঠিন রোগের চিকিৎসায় সুদহীন ঋণ পাবে সন্তানরা। এজন্য পিতা-মাতার ভরণপোষণ তহবিল গঠন করা হবে। ওই তহবিল থেকে মা-বাবার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদি সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে সন্তানরা। সন্তানের আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে অনুদানও দেওয়া হবে তহবিল থেকে। তবে ঋণ বা অনুদানের অর্থ মা-বাবার চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না।

এমন সুযোগ রেখে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর আওতায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত করে তা জারির বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ।

খসড়া বিধিমালার ৪৮ ধারায় বলা আছে, পিতা-মাতার নিউরোজনিত রোগ, হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি, লিভার বা অন্য কোনো জটিল রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজন অনুসারে সন্তানকে সুদবিহীন দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বা অনুদান সহায়তা দেওয়া হবে। ঋণের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পিতা-মাতার চিকিৎসার জন্য খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, মা-বাবার ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে সন্তানকে।

বছরে ন্যূনতম একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, যার ব্যবধান ৩৬৫ দিনের বেশি হবে না। মা-বাবা বিশেষ কোনো রোগে আক্রান্ত হলে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য-প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

মা-বাবার চিকিৎসা ও সুরক্ষার জন্য সন্তানের আয়-রোজগার শুরুর সময় থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, আয়-রোজগার শুরু হতেই সন্তান তার সক্ষমতা অনুসারে মা-বাবার ভরণপোষণ ও আপৎকালীন সুরক্ষার জন্য ডিপিএস, এফডিআর, স্বাস্থ্যবীমা বা সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন সঞ্চয়স্কিম করবে।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পিতা-মাতার পরিচর্যা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব পরিচর্যাকেন্দ্রে দিবাযত্ন কেন্দ্র ও রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্র নামে আলাদা কর্নার থাকবে।

যে সন্তান তার পেশাগত বা অন্য কারণে দিনের বেলায় মা-বাবার পরিচর্যা করতে পারবে না, সে তার মা-বাবাকে দিবা পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সেবা নিশ্চিত করবে। যে সন্তান রাতে সেবা করতে পারবে না, সে রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে সেবা নিশ্চিত করবেন। তবে এসব পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে পিতা-মাতার সেবা দেওয়া সর্বশেষ উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, পরিচর্যা কেন্দ্রে মা-বাবাকে আঘাত, প্রহার বা কোনো রকম শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। কোনো ধরনের মানসিক নির্যাতন বা অশালীন আচরণ করা যাবে না। মা-বাবা লজ্জিত, অপমানিত বা হেয় বোধ করেন এমন কোনো কাজ করা যাবে না। পরিচর্যাকেন্দ্রে প্রত্যেক নিবাসীর জন্য আলাদা নথিতে হেলথকার্ডসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রতিমাসে অন্তত একবার ডাক্তার সব নিবাসীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। সেখানে প্রত্যেক নিবাসীর জন্য আলাদা খাট, বিছানাপত্র, মশারি, লেপ, কম্বল থাকতে হবে। প্রয়োজন অনুসারে গরম পানি, হাই কমোড, টয়লেটে হ্যান্ডেল, সব দরজা বাহিরের দিকে খোলার ব্যবস্থা, দরজায় হ্যান্ডেলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ডেইলি২৪লাইভ/ঢাকা/এসএস

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here