প্লাস্টিকের আসবাবে অর্ধেকে নামে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা!

0
38

বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডেস্ক: খাদ্যে এবং ঘরে ব্যবহৃত পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক উদ্বেগজনক হারে কমাচ্ছে মানুষ ও গৃহপালিত পশুর প্রজনন ক্ষমতা। গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকে বিদ্যমান রাসায়নিক উপাদান মানুষ ও গৃহপালিত পশু কুকুরের প্রজনন ক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনছে।

উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের একদল গবেষক। এতে মানব ও গৃহপালিত কুকুরের প্রজনন ক্ষমতা কমানোর জন্য দুটি বিষয়কে দাবি করছেন নাটিংহামের গবেষকরা। এর একটি হলো- মানব সৃষ্ট রাসায়নিক ডিইএইচপি।

এর মধ্যে রয়েছে, ঘর সাজাতে ব্যবহৃত কার্পেট, ফ্লোর, কাপড়, খেলনা ইত্যাদি প্লাস্টিক জাতীয় বস্তু। অন্যটি হলো- কলকারখানায় তৈরি পলেথিন জাতীয় বস্তু। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় বাইফিনল ১৫৩। বিশ্বব্যাপী এগুলো নিষিদ্ধ।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক দশকে দিন দিন পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। গেলো ৮০ বছরে শুক্রাণুর ক্ষমতা অর্ধেকে নেমেছে। এটা শুধু পুরুষের ক্ষেত্রে নয়, গৃহপালিত কুকুরেরও একই অবস্থা। ঘরে ব্যবহৃত আসবাব পত্র এবং খাবারে ব্যবহৃত তৈজসপত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এ জন্য দায়ি বলে প্রতীয়মান হয়েছেন গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের ভেটেনারি মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিচার্ড লিয়া বলেন, “গবেষণায় কুকুরের বিষয়ে যে সতর্কতা দেয়া হয়েছে। এটা মানব সমাজের জন্য আয়না স্বরূপ। কুকুরের মতোই মানুষের প্রজনন ক্ষমতা উদ্বেগজনকভাবে কমছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কুকুরের ওপর পরিচালিত গেবষণা তত্ত্বের সঙ্গে নতুন এই গবেষণাটিও মিলে গেছে। আমরা আগে দেখেছিলাম কত কয়েক দশক ধরেই গৃহপালিত কুকরের প্রজনন ক্ষমতা কমছে।”

তিনি আরো বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই ঘরে এবং কাজের জয়াগায় হরহামেশাই মানুষের তৈরি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্ভবত একই পরিবেশে বসবাস করার জন্য কুকুরের মতো মানুষের শুক্রণুর মানও কমছে। ”

লিয়া বলেন, “আমাদের আগের গবেষণাটি ছিল কুকুরের ওপর। তখন আমরা পরিণত বয়সের কুকুরের শুক্রাণুতে রাসায়নিক দূষণের দেখা পাই। এই দূষণ দেখা যায় তাদের দেয়া কিছু খাবারের মধ্যেও। পুরুষের পুনঃউৎপাদনশীলতা বিস্তারে শুক্রাণুতে কীধরনের ক্ষতিকার প্রভাব রাখছে সে বিষয়ে মনোনিবেশ করি। মানুষ এবং কুকুরের শুক্রাণু ভিট্রো টিউবে নিয়ে আমরা দেখতে পাই, ডিইপিএইচ এবং পিসিবি১৫৩ একই রকম বাধা সৃষ্টি করছে।” -সায়েন্স ডেইলি।

ডেইলি২৪লাইভ/এইচএ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here